বুধবার   ১৬ জুন ২০২১

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
৩৯৩৩

করোনা সংক্রমনঃ মাত্র ১ দিনেই টপ কেছে জেলা সদর

প্রকাশিত: ৫ জুন ২০২০  

সালেহীন তুহিনঃ প্রায় ১৭ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত মুন্সীগঞ্জ জেলা। জেলা সদর সহ টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, গজারিয়ার সমন্বয়ে ৬ উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ। প্রায় ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট জেলায় গ্রামের সংখ্যা ৯০৬ টি। হাজার বছরের অধিকালের ঐতিহ্য সম্বলিত সমৃদ্ধ জনপদ মুন্সীগঞ্জ। বিশ্ববরেণ্য বহু ক্ষনজন্মার মাতৃভ‚মি এই অ ল। এখানে জন্মেছিলেন সহ¯্রাব্দিকাল পূর্বে বৌদ্ধ ধম্বাবলম্বিদের দ্বিতীয় বৃহত্তর ধমগুরু শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর, গাছের প্রাণ উদ্ভাবক ও বৃটিশদের প্রদত্ত সর্বোচ্চ খেতাব ‘নাইট’ উপাধিতে ভ‚ষিত স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, গ্রেট বৃটেনের সর্ববৃহৎ চ্যানেল বিজয়ী প্রথম সাতারু ব্রজেন দাস, দানবীর বৃটিশদের প্রদত্ত দেশবন্ধু উপাধিতে ভ‚ষিত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, ভারতবর্ষের প্রখ্যাত রাজনীতিক সত্যেন সেন, নারী জাগরণের অগ্রগণ্য পথিক আশালতা সেন সহ অসংখ্য জ্ঞানীগুনীর পদচারণায় মুখরিত ছিল এই জনপদ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতির, শিল্প-সাহিত্যের লীলাভ‚মি এই অ ল দেশতো বটেই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও তদানিন্তন বিক্রপুর তথা মুন্সীগঞ্জ ব্যপকভাবে সমাদৃত। এই জেলার বৈশিষ্টগত দিক থেকে দেশের অন্যান্য জেলার একটি বিষয়ে ব্যতিক্রম যে, নদনদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ তা-ও দেশের বৃহত্তম পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী এবং ইছামতি বিধৌত এই জেলা। এই সমতটের অধিবাসীদের বিশেষ একটি গুনেও মুগ্ধ দেশের মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের ধনী-গরীব নির্বিশেষে ‘আতিথি পরায়ণতা’ বিস্তর প্রশংসাবানে সিক্ত। অতিথিদের সাদর সম্ভাষণে স্বাগতমে-অভিবাদনে অনন্য নজীর বিদ্যমান। তবে সর্বোপরি এবারের অতিথি পরায়নতাই কাল হয়েছে মুন্সীগঞ্জর জন্য। নিশ্চয়ই অত্যুক্তি হবে না যে, বৈশ্বিক মহামারি নভেল কোভিড-১৯ বা করোণা ভাইরাস রীতিমত অভ্যর্থনায় গৃহীত হয়েছে এই জেলায়। অন্তত দেশের ৫/৬ টি জেলা ব্যতীত সংক্রমিতের দিক থেকে সংখ্যাধিক্যে তাই সহসা প্রতীয়মান হয়। গত বুধবার পর্যন্ত দেশের অন্তত ২৭/২৮ টি জেলা বিগত প্রায় ৩ মাসেও পজেটিভ সনাক্তের সংখ্যা ২ অংকের কোঠায় সীমাবদ্ধে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ এ জেলা গুলোর সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৯৯ জনের নীচে। দৃষ্টান্ত অনুযায়ী গত বুধবার পর্যন্ত দেশের ২টি জেলা যথাক্রমে মাগুরাও মেহেরপুর কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা উভয়েই ২৯ জন। বিগত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোণা পজেটিভ শনাক্ত রোগীর সন্ধান প্রাপ্তির প্রায় ৩ মাসে উক্ত ২ জেলার মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ জন। মুন্সীগঞ্জ জেলায় গত মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টায় বা ১ দিনান্তেই পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ৬৯ জন। উপরোল্লিখিত ২ জেলা প্রায় ৩ মাসে যে পরিমান আক্রান্ত হয়েছে এই জেলা ১ দিনেই সংক্রমিত হয়েছে তাদের চেয়ে ১১ জন বেশী। উক্ত দুই জেলার ৮৯ দিনের মোট আক্রান্তের চেয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে  ১ দিনেই শনাক্তে অতিক্রম করেছে। 
সূত্রে আরো জানায়, দেশের অপর ২ জেলা নড়াইল ও ঝালকাঠিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে উভয়েরই মোট আক্রান্ত ৩০ জন করে। প্রথমোক্ত ২ জেলা ও উপরোক্ত ২ জেলাসহ ৪ জেলায় উক্ত সময়ে মোট আক্রান্ত হয় ১১৮ জন। যা মুন্সীগঞ্জের ২ দিনের আক্রান্তের প্রায় সমান। জেলায় সর্বশেষ রেকর্ড ৬৯ জন শনাক্তের পূর্বের সর্বোচ্চ সংখ্যা গতকাল বৃহস্পতিবারের ৫১ জন পজেটিভ শনাক্ত। উল্লেখিত ২ দিনে জেলায় মোট আক্রান্ত হয় ১২০ জন। পক্ষান্তরে ঐ ৪ জেলায় ৩ মাসে মোট আক্রান্ত ১১৮ জন, যা এই জেলা থেকে ২ জন কম। এছাড়াও সমসাময়িক এই ৪ জেলা ব্যতীতও গত বুধবার পর্যন্ত দেশের আরো ২৩/২৪ টি জেলা ২ অংকের কোঠার সর্বোচ্চ ৯৯ জনের নিচে আক্রান্ত সীমাবদ্ধে সমর্থ হয়েছে।
    গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ ৮৫৩ জন পজেটিভ শনাক্ত সমেত বাংলাদেশের মধ্যে ৭ম স্থানে অবস্থান করছে। মুন্সীগঞ্জের উপরে রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলা। এই জেলাই আয়তন এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় কমপক্ষে দ্বিগুন আর সর্বোচ্চ ৬ গুন পর্যন্ত। তাই জনসংখ্যাধিক্য তুলনায় মুন্সীগঞ্জের সংক্রমিতের হার তাদের চেয়ে বেশী। 
এসকল বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সংক্রমিত জেলা সমূহ এই জেলার আশপাশেই অবস্থিত। বিশেষত দেশের সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকা এবং তৃতীয় শীর্ষস্থানে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সরাসরি সীমানা বিদ্যমান। উক্ত ২ জেলার মানুষজন খুব সহসাই মুন্সীগঞ্জে যাতায়ত করতে পারে। তাই মোটাদাগে উক্ত ২ জেলা থেকেই মুন্সীগঞ্জ অধিকাংশ আক্রান্ত হয়েছে তা তিনি স্পষ্টতাই জানান। ডাঃ আবুল কালাম আজাদের মতে, করোণা সংক্রমণের গোড়ার দিকে উক্ত ২ জেলার মানুষজন এবং এখানকার জনসাধারণ হরহামেষাই অবাধে যাতায়ত করে। ফলে আক্রান্ত বিস্তারে সহজ হয়।

  

এই বিভাগের আরো খবর