রোববার   ২৭ নভেম্বর ২০২২

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
৪৩৪

ছত্রাকের আক্রমণে চরম বিপাকে পান চাষিরা

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০২১  

প্রধান প্রতিবেদক
বর্ষার সময়ে অতিবৃষ্টির কারনে জেলার পান চাষিরা বেশ ক্ষতির সম্নুখিন হয়েছিলো। পানের উৎপদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়ে পান বিক্রি করে চাহিদা অনুপাতে মূল্য না পাওয়ার কারনে কৃষকরা লোকসান গুনেছিলো। বর্তমানে শীতের এই সময়টাতে সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই পান গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝড়ে পরা ও পাতাপচা রোগসহ ছত্রাকের আক্রমণে বিপাকে পড়েছে জেলার পান চাষিরা। এ অবস্থায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে। তবে কৃষকরা বলছে ঘন কুয়াশা আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে বরজে ওষুধ ছিটিয়েও কোনও সুফল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।  
পান চাষিরা জানান,লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকা, জেলার বাইরে অন্যান্য জেলা এবং দেশের বাইরে পান রপ্তানি কমে যাওয়াতে পানের বাজারে ধস নেমেছিলো। এরপর বর্ষার সময়ে অতিবৃষ্টির কারনেও পানের বরজের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি পানের বরজগুলোতে ব্যহৃত ১২শ বাঁশের চাটায়ের দাম বেড়ে গিয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পান গাছের গোঁড়ায় আগে ৩৫ টাকা কেজিতে সরিষার খইল কিনে মাটিতে মিক্স করা হতো। কিন্তু খইলের দাম এখন ৫০ টাকা কেজিতে পৌছেছে। এতে করে এবছর পানের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সময় মতো বাজারজাত করতে না পারায় বিভিন্ন বরজ মালিকের পান বরজেই নষ্ট হয়েছিলো। অনেকে সর্বশান্ত হয়েছেন । আবারও ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষকরা যখন একটু লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলো ঠিক তখনই শীতের এই সময়টাতে বরজে থাকা পান ছত্রাকের আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 
সরেজমিনে জেলা সদরের রামপাল, বজ্রযোগীনি এবং পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, বরজগুলোতে পানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে অধিকাংশ জমিতে থাকা পান হলুদ বর্ণ ধারন করে মাটিতে ঝড়ে পড়ছে। কিছু কিছু পানের বরজে পানগুলো শুকিয়ে মাটিতে পড়ে আছে। কৃষকদেরকে পানের বরজে বিভিন্ন ধরনের কিটনাশক স্প্রে করতে দেখা গেছে। 
পান চাষি শুকান্ত দাস বলেন, দারদেনা করে ২৫ শতাংশ জমিতে পানের বরাজ করিছি। কয়েক মাস আগে যে বৃষ্টি হইলো, তাতে আমার বরাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। সে ক্ষতি না পোষাতে নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধইরা ঠান্ডা, কখনও গরম পড়তাছে।তাতে পানের পাতা সব হলুদ হয়ে ঝইড়ে পরতিছে। কুয়াশার কারণে পান গাছের পাতায় কালা কালা দাগ পইরা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমি কি করবো, দারদেনার টাকা কিভাবে শোধ করবো সেই নিয়ে চিন্তায় আছি। 
একই গ্রামের পান চাষি মো: খোরশেদ ঢালী বলেন, প্রতি বছরই, শীতের সময় কমবেশি পান গাছে পাতা ঝইড়ে পড়ে। কিন্তু এবার শীতÑ কুয়াশা তেমন পড়েনি তবুও নষ্ট হচ্ছে পানের বরজ। আমার বরাজের পানও হলুদ হয়ে যাচ্ছে। সাথে পোকের কারণে গাছের মাঝ থেকে ভেঙে পড়ছে। উপজেলা থেকে একজন কৃষি অফিসার এসে দেখে গেছে। ওষুধ দিছে, তা ছিটাইয়ে দিছি, সঙ্গে বরাজের ওপরে নেট জাল দিয়ে দিছি, যাতে ভেতরে কুয়াশা না ঢুকতে পারে। এরপরও কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি  সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে পান পাতা হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়াসহ ছাত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার পরিমার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাগুলো বাড়তে থাকে। এ সময় পান পাতায় ছত্রাকজনিত কালো দাগও দেখা যায়। তবে এ সমস্যা সমাধানে তারা কৃষকদের বরাজের ভেতরে কুয়াশা যাতে না ঢুকতে পারে সেজন্য পলিথিন বা নেটজাল দিয়ে ছাউনি দেওয়ার পরাপর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বরাজে ছত্রাকের আক্রমণ রুখতে কৃষকদের নিয়মিত ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

এই বিভাগের আরো খবর