শুক্রবার   ২৩ জুলাই ২০২১

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
১২০০

মুন্সীগঞ্জ সদরঃ চরাঞ্চলে সহিংসতা বন্ধে পুলিশ কেন অসহায়

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১  

 এম এম রহমানঃ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের আতংকিত জনপদ ছোট মোল্লাকান্দি ও খাসকান্দি গ্রাম। পবিত্র রমজান মাসেও থেমে নেই গ্রামগুলোতে সংঘর্ষ ও সহিংসতা। ককটেল হামলায় আহত হচ্ছেন অনেকে। বাড়ীঘরে ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। হামলার পর পুলিশের ভয়ে হামলাকারীরা গ্রামছাড়া হলেও আতংকে থাকেন স্থানীয় শিশু বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। কখন আবার ককটেল হামলা আর ভাংচুর শুরু হয়। সাধারণ মানুষের দিন রাত কাটে উৎকন্ঠায়। ককটেলের শব্দে শুনে রাতে ঘুমানো এবং ভোর রাতে ককটেলের শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীদের। 

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বছর ১৪ মার্চ ট্রলিতে করে আলু নামানো নিয়ে সংঘর্ষ বাধে।  এতে ছোট মোল্লাকান্দি এবং খাসকান্দি গ্রামে থাকা লোকজনের উপর ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে উভয়পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। এরপর গত বছর এপ্রিল, মে মাসে আরো বেশ কয়েকবার দু’টি গ্রামে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে প্রায় ১৩টি মামলা হয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায়। একাধিক মামলায় উভয় পক্ষের অনেক আসামী আদালত থেকে জামিন নিয়ে ও জামিন না নিয়ে এলাকায় অবস্থান করেন। চলতি বছরে আলু রোপণ করার জন্য দু’পক্ষের লোকজনকে এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থায় থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই থেকে দু’পক্ষের লোকজন এলাকায় ছিলো। কিন্তু গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে অতর্কিতভাবে এক পক্ষ মোল্লাকান্দি এবং খাসকান্দি গ্রামে হামলা চালায়। বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে প্রায় দুই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। সন্ধ্যার পর পুলিশ হামলাকারীদেরকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে দেয়। শনিবার ভোর সকালেও হামলা চালিয়ে পুনরায় এলাকায় আসতে চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ছোট মোল্লাকান্দি গ্রাম থেকেও লোকজন উত্তেজিত হয়ে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেয়। এলাকার বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতির কারনে পিছু হটে দু’পক্ষের লোকজন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগুলোতে শুনশান নিরবতা। পুরুষশুন্য গ্রামে শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীরা আতংকে রয়েছেন। বেশ কিছু বাড়ী ঘরে ভাঙচুর এবং বিপুল পরিমান ককটেল বিস্ফোরণের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।  কোন কোন বাড়ীতে ককটেল হামলায় আহতদের রক্ত এখনও মাটিতে এবং ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। খাসকান্দি গ্রামের পূর্ব মাথায় গিয়ে দেখা প্রায় ৮শ’ মিটার দূরে রজতরেখা নদী। নদীর অপরপ্রান্তে পার্শবর্তী মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চৈতারচর গ্রাম। অধিকাংশ হামলাকারীররা চৈতার চর নদীর তীর এবং চৈতারচর গ্রামকে দূর্গ হিসেবে ব্যবহার করেন বলে জানান স্থানীয়রা। হামলা করার আগে এবং পরে হামলাকারীরা চৈতারচর এলাকার নদীর তীরে অবস্থান করে। দূর্গম রাস্তা হওয়াতে সেখানে পুলিশ যেতে পারেনা। নদীর তীরে বেশ কয়েকজন যুবককে লাল বালতি নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এসময় একাধিক স্থানীয় মুরুব্বি জানান, ওরা নদীর তীরে ককটেলের বালতি নিয়ে বসে থাকে। হঠাৎ করে গ্রামে হামলা করে পুনরায় তারা নদী পাড়ি দিয়ে ওইপারে চলে যায়। অন্যদিকে খাসকান্দি গ্রামের পশ্চিম পাশে নূরানী কোল্ড স্টোরের সামনে পুলিশের একাধিক সদস্যদের অবস্থান। মাঝে মধ্যে তারা গ্রামগুলোতে টহল দিচ্ছেন। 
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বছর ধরে চলছে সংঘর্ষ। এলাকাটিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে কিছু সুবিধাবাদী নেতা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জামাত বিএনপি থেকে আসা কিছু লোক দু’পক্ষের মধ্যে দিনের পর দিন ঝগড়া লাগিয়ে রাখছে। দু’পক্ষের মারামারিতে তারা মাঝখানে ফায়দা লুটে নিচ্ছে। সংঘর্ষের প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ মামলা নিয়েছে। পাশাপাশি অপর পক্ষকেও কাউন্টার মামলা করার সুযোগ দিয়েছে। যারা ভুক্তভোগী তারা মামলা করে আসার পরদিন আবারও তাদের বিরুদ্ধে একই ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা দেয়ার পর উভয় পক্ষের লোকজনই কিছুদিন শান্ত থাকে। আবার কিছুদিন পর পুনরায় ককটেল হামলা শুরু হয়। তবে যারা বর্তমানে এলাকায় নতুন করে হামলা ভাঙচুর করছে তারাই বিগত দিনে একাধিক হামলার ঘটনার মূল আসামী। মামলাগুলোতে তাদের কোন বিচার না হওয়াতে তারা এখনও বেশ বেপরোয়া। এতোগুলো মামলার দরকার ছিলো না। পুলিশ বাদী হয়ে একটা মামলা করলেই হতো। ওই মামলায় উভয় পক্ষের ককটেল হামলার সাথে জড়িতদের আসামী করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা দরকার ছিলো।

সচেতন মহল বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতিতে বিশ্বাসী কিছু নেতা এই ধরনের ককটেল হামলার ঘটনাতে গোপনে মদদ দিচ্ছেন। এলাকায় এখন ঝগড়া হচ্ছে শুধুমাত্র টাকার গরমে। তারা মনে করেন ‘টাকা আছে, নেতা আছে, হামলা-মামলা করলে কি হবে।’ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতে বিভিন্ন দল থেকে আসা সুবিধাবাদীরা দু’পক্ষকে সংঘর্ষের দিকে ধাবিত করছে। সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের উচিত চলমান আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে অনেকেই চাইবে একটি পক্ষকে সাপোর্ট করে তার অবস্থান সৃষ্টি করতে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোন স্থানীয় নেতা থানা কিংবা অন্য কোথাও গিয়ে যেকোন একটি পক্ষের হয়ে তদবির করা মানেই সংঘর্ষের ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়া। বর্তমানে সেটাই হচ্ছে। এজন্য ভুক্তভোগীরা প্রকৃত বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার সহিংসতাকারীও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে হামলার মূল কারণ এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ককটেল আমদানির সাথে জড়িতদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কোন নেতা যেন সুযোগ না নিতে পারে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে আরো সতর্ক হতে হবে। মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির অপরাজনীতির কারনে গ্রামে থাকা শতকরা ৬০ ভাগ নিরীহ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। 

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দক বলেন, আসামীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য আমরা সার্বক্ষণিক অভিযান চালাচ্ছি। একই সময়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে কাউন্টার মামলা নেওয়া হয়। গত শুক্রবারের ঘটনায় দু’পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলো। ককটেল হামলা বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকরি কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ককটেল তৈরি, বিস্ফোরণ এবং হামলার সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

 
 

এই বিভাগের আরো খবর