বৃহস্পতিবার   ১৭ জুন ২০২১

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
৫৮

সংসার চালাতে পারছেন না তারা 

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২১  

তুষার আহাম্মেদঃ

বাড়তি খরচ কমিয়ে দিয়েছি গত বছর থেকেই। খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। বেশিরভাগ দিন দুপুরে খাই না। তারপরও আমরা খরচের হিসাব মেলাতে পারি না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কী করব, সেই চিন্তায় রাতে দুজন ঘুমাতে পারি না। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কিছু করব তারও উপায় নেই। কারণ গ্রামের বাড়িতে জমিজমা নেই। কোনো রকমে একটা ঘর আছে।’ এর মাঝেই লকডাউনে সবকিছু বন্ধ সংসারের খরচ চালানোই এখন কষ্টকর হয়ে পরেছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার  বানারী ইউনিয়নের দুই সন্তানের জননী ফিরোজা বেগমের । 

একদিকে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ, অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

ফিরোজা বেগম বলেন ,  স্বামী রহমান মিয়া  রিকশা চালান। দুজনের আয়েই চলে সংসার। ২০১৯ সালে বড় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার পর খরচ বেড়ে যায়। স্বামীর পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়লে ওই বছরই ৬ হাজার টাকা বেতনে গার্মেন্টে চাকরি নেন আয়েশা বেগম। স্বামী-স্ত্রীর আয়ে ভালোই চলছিল সংসার। একটি ব্যাংকে মাসে এক হাজার টাকা করে সঞ্চয়ও শুরু করেন তারা। কিন্তু গত বছর মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে বদলে যায় জীবনের গতি। নিজের চাকরি থাকলেও ভাটা পড়ে স্বামীর আয়ে। সংসার চালাতে ভাঙতে হয় জমানো টাকা। ধীরে ধীরে যখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল, তখনই আবার আঘাত হেনেছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

করোনা সংক্রমণ রোধে জনগণের চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এতে স্বামীর আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। সেই সঙ্গে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। ফলে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এই দম্পতি।

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে দুপুরের খাবার ছেড়ে দিয়েছি। মাঝে মধ্যে রাতেও খাই না। তার পরও খরচের লাগাম টানতে পারছি না।’

পোশাক শ্রমিক আয়েশা, রিকশাচালক আবদুর রহমান ছাড়াও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অল্প বেতনের চাকরিজীবীরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরিরত আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাসে ২২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। বাসা ভাড়া চলে যায় ১২ হাজার টাকা। বাকি টাকা দিয়ে সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাতে হয়। সবমিলিয়ে অবস্থা এমন দাঁড়ায়, মাসের শেষ কয়েকদিন চলাই কষ্টকর হয়ে যায়। আমি নিজে দুপুরে কোনো রকমে খেয়ে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় চাকরি করি, তাই গ্রামের সবাই ভাবে, খুব ভালো আছি। আসলে আমাদের সংসার যে কীভাবে চলে তা গ্রামের বাড়িতে যারা থাকেন তাদের বোঝানো যায় না। কোনা রকমে খেয়ে না খেয়ে ঢাকায় টিকে আছি। কোনো সঞ্চয় নেই। গরুর মাংস কালেভদ্রে কপালে জোটে। ব্রয়লার মুরগিও মাসে দুই-তিনবারের বেশি কেনা সম্ভব হয় না।’

কত মানুষ নিম্নআয়ের তা বলা মুশকিল। এটা পরিসংখ্যানের বিষয়। তবে করোনার কারণে অনেকে নিম্নআয়ের কাতারে চলে এসেছেন। এসব মানুষগুলো এখন নিঃসন্দেহে কষ্ট আছেন।

 বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘদিন ধরেই লাগামহীনভাবে ছুটছে চালের দাম। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দিলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। উল্টো চালের দাম আরো বেড়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর