বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
৫৩

সিরাজদিখানের খরস্রোতা নদী ইছামতি এখন অস্তিত্ব সংকটে

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২১  


মোঃ আহসানুল ইসলাম আমিন:: 
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছামতি নদী কালের আবর্তে এখন মৃতপ্রায়, এক সময় ইছামতির গতিপথ ছিল প্রচন্ড ব্যস্ত। ১২ মাস এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ স্টিমার চলাচল করত হুইসাল বাজিয়ে। সিরাজদিখান ও তালতলা হতে লঞ্চযোগে বেতকা, আব্দুল্লাপুর, কমলাঘাট, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় যাতায়াত করা যেত। এই নদীর ভরা যৌবনে ছিল টলমলে জোয়ার-ভাটা। নদীর দৈর্ঘ্য ছিল তখন ৯০-১০০ কি.মি। গভীরতা ছিল ৩০-৪০ মিটার। প্রস্থ কোথাও কোথাও ১ থেকে ১.৫ কি.মি.। ইছামতির বুকে চলাচল করতো। পাতাম, নায়রী, রফতানী, লম্বাপাদি, কেয়া নৌকা, ডিঙ্গি, গয়না, ইলশা, কোষা, সওদাগরী, স্টিমার, রঙ্গিন পালতোলা নৌকা, বড়বড় বাঁশ বা গাছ বোঝাই ভেলা, স্তরে স্তরে সাজানো মাটির হাড়ি-পাতিলের কুমারের নৌকা,১০০-২০০ মনি ধান পাটের নৌকা প্রভৃতি ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করতো। ব্যবসায়ীরা ধান, গম, পাট, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, মাটির তৈজসপত্র এসব বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসত। বিভিন্ন ঘাটে নৌকাগুলো বাঁধা হতো। আশে পাশের গ্রামের সবাই এগুলো কিনত। দুই-তিনদিন করে থাকত। নৌকার ভেতরে মাঝি, লেবার ও ব্যবসায়ীরা থাকত। ভেতরে ওরা রান্না করত, খেতো, ঘুমাতো আর নদীতে গোছল করতো। ইছামতি স্থানীয় জনমানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করেছে। এর দু’পাশে ফসলি জমিতে প্রচুর শস্য উৎপাদিত হতো। এ নদী দিয়ে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য হয়েছে।
সিরাজদিখান ও তালতলা বাজার লঞ্চ ঘাট থেকে নিয়মিত বেতকা, আব্দুল্লাপুর, কমলাঘাট, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা লঞ্চ ছেড়ে যেতো। প্রতিদিন দুপুর ১২টায় লঞ্চ আসত যাত্রী নিয়ে। তা দেখে স্থানীয় মানুষ সময় গুনে নিত। যৌবনদীপ্ত ইছামতি নদী ঘিরে উপজেলার তালতলা বাজার, ইমামগঞ্জ, গিরিগঞ্জ, ইছাপুরা, নোয়াপাড়া, শিংপাড়া, বৌবাজার, নিমতলা, শেখরনগর, মরিচা, সৈয়দপুর, রামকৃঞ্চদী, রাজানগর, বাহের ঘাটা, টেকেরহাট এলাকায় বাজার সরগরম করত। এখন ওই সব বাজারের সামনে ইছামতি মরা খালে পরিণত হয়ে উঠেছে। ইছামতির বুকে লঞ্চ আর স্টিমারের হুইসেল বেজে উঠে না। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের পুরো সময়টাই থাকে পানিশূন্য। এখন আর ইছামতিতে ডিঙ্গি নৌকা চলাচল করে না। চলে না ট্রলার কিংবা লঞ্চ।
এক সময়ের খরস্রোতা নদী ইছামতি এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্য হারিয়ে মরতে বসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর দখলবাজ লোকজন রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে নদীর তীরবর্তী জেগে ওঠা চরের জমি। এ পরিস্থিতিতে চাষাবাদ ও নৌযোগাযোগ এখন চরম হুমকির মুখে। ইছামতি নদী এখন হেঁটেই পার হওয়া যায়। অনেক স্থানে এখন হাঁটু পানি। সাধারণ নৌকা চলার সময়েই আটকে যায়, শুকনো মৌসুমে পণ্যবাহী নৌকা বা ট্রলার চলার উপায় থাকে না। নদী মরে যাওয়ার ফলে এই অঞ্চলের সেচ কাজও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে জানান কৃষকরা। নদী কেন্দ্রিক বাণিজ্য এবং তীরবর্তী বাজারগুলো অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এ নদীর গতিপথ আজ রুদ্ধ । না আছে জল, না আছে যৌবন। হাড্ডিসার দেহ নিয়ে এ নদী এখন তার শত বছরের স্মৃতির জাবর কাটছে ইছামতি।

জানা য়ায়, মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদী থেকে বের হয়ে ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, নবাবগঞ্জ, দোহার হয়ে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর-সৈয়দপুর ইউনিয়নের ফুলহার নামক স্থান দিয়ে মুন্সীগঞ্জে এর অনুপ্রবেশ। হযরতপুর (গোপালপুর), গণশেমপুর ও শেখনগর এখানে এসে ইছামতি নদীটি দু’ভাগ হয়ে একটি আলমপুর, বিল আড়িয়াল, ষোলগর, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার হলদিয়া দিয়ে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। অপরটি শিকারপুর, নিমতলা, কালারচর, ব্রজেরহাটি, বাসাইল, রামানন্দ, উত্তর রাঙ্গামালিয়া, চোরমদ্দন, সিরাজদিখান, রাজদিয়া, টেঙ্গুরিয়া পাড়া, বাহের ঘাটা, ছোট পাউলদিয়া, দোসর পাড়া, জামাই হাঁটি, চৌদ্দগড়, বয়রাগাদি, ফুরশাইল, তালতলা বাজার, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূর্ব রায়পুর, উত্তর বেতকা, বৃন্তসার, সেলিমাবাদ, সদর উপজেলার ইমামচর, তেলখিরা, কুমারিয়া হয়ে তিলার্দ্দি নামক স্থান দিয়ে ধলেশ্বরীতে পতিত হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, কৃষকদের কথা চিন্তা করে ইছামতি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে আমাদের কৃষি কাজের জন্যে অনেক সুবিধা হবে। মাঠের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এবং সহজে নৌপথে উৎপাদন কৃত ফসল বাজারে বিক্রির জন্যে নেয়া যাবে।স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি ইছামতি নদীর সাথে এই অঞ্চলের ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে তাই ইছামতি রক্ষায় কতৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এবং নদীর তীরবর্তী অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রশাসনের পদক্ষেপ নিতে হবে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও সুশীল সমাজ।
 

এই বিভাগের আরো খবর