রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১

সর্বশেষ
শ্রীনগরে আর্থিক কষ্টে মৃৎশিল্পীরা সিরাজদিখানে হাজারো মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চলছে দোয়া ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ঝুঁকি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ উৎসবানন্দে নিঃশঙ্ক চিত্ত জেলার সর্ববৃহৎ বালিগাঁও বাজারে মানুষের উপচে পরা ভির মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ৫০ হাজার মানুষ জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত মুন্সীগঞ্জে চঙ্গ তৈরি করার কারনে পুরো একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয় - মোঃ শফিকুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংবাদকর্মীরাঃ মৃনাল কান্তি দাস প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতীয়মানের এখনই সুযােগঃআবু বকর সিদ্দিক শ্রীনগরে নার্সারীতে বাহারী আমের বাম্পার ফলন বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যানঃ দৃশ্যমান ৪ হাজার ৩৫০ মিটার করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা.. জেলার ৭৪টি হিমাগার ৪০ ভাগ ফাঁকা-৮০০ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড় মুন্সীগঞ্জে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলছে চাঁই তৈরীর ধুম ২ মিনিটেই মারা যাবে করোনা ভাইরাস নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছেঃ পৌর মেয়র বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা ৯৮ সালে প্রলয়ংকারী বন্যা মোকাবেলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেনঃমহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিদিন জীবানু নাশক পনি ছিটান অব্যাহত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মারা যাওয়া সবাই ঢাকার আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সবচেয়ে সেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের নানা আয়োজন মধুচাষে লোকসান টঙ্গীবাড়ীতে ১০০ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধাবৃত্তি প্রদান টিসিবি`র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না
৬৭

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রপরেখা খসড়া-২০২০

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রপরেখা খসড়া-২০২০: নবম শ্রেনীতে বিভাগ বিবেচনা ও প্রাসঙ্গিকতাঃ  (পর্ব-১)

সাম্প্রতিককালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণিত নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রুপরেখা খসড়া উপস্থাপন করেছেন যার পজিটিভ দিক হলো: প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি ছাড়া সব শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা হবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। পাশাপাশি বই ও পরীক্ষা চাপ এবং মুখস্থ বিদ্যা কমিয়ে বাস্তবসম্মত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অন্য দিকে নেগেটিভ দিক হলো: নবম শ্রেনীতে কোনও বিভাগ বিভাজন  থাকবে না যা বিশ্বের কোন দেশে বিরল ঘটনা। পাশাপাশি ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের বিষয় আছে যেটি নিয়ে বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে লিখার চেষ্টা করবো।  বৃটিশ কারিকুলাম আর আমেরিকান কারিকুলাম অনুযায়ী সাধারনত নবম শ্রেনীতে শিক্ষাথীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বিভক্ত হয়। আমার জানা নাই, কিসের ভিত্তিতে বা কোন দেশের মডেল ফলো করে বিশেষজ্ঞগন এ ধরনের সকল বিষয়ের সম্বনিত করে এসএসসির কারিকুলামের জন্য পরামর্শ দিলেন।  নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা বর্তমান নিয়মে পদার্থ-রসায়ন-জীববিজ্ঞানের উপর আলাদা তিনটি ১০০ নম্বরের বই পড়ে, আলাদা ল্যাবও করে। নতুন পদ্ধতিতে সেটা মাত্র একটি বইতে নেমে আসছে যার ফলে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীব বিজ্ঞানকে সমন্বিত করে একটি বিজ্ঞান পড়ানো হবে যার অর্থ হলো আগে যতটুকু পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীব বিজ্ঞান পড়তো বর্তমানে তার তিন ভাগের এক ভাগ পড়বে। আমাদের শিক্ষার্থীরা এমনিভাবে বিজ্ঞানে দুর্বল। পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলি আলাদা গুরুত্বে না পঠিত হলে, বরংচ এগুলোকে পরিবেশের বিষয়ের সাথে, তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ের সাথে, জীবন ও জীবিকার বিষয়ের সাথে মিলিয়ে ছড়িয়ে পাঠদান করলে মূল বিষয়গুলি অত্যন্ত ঘোলাটে হয়ে যাবে, এবং কোর-কনসেপ্ট বৃদ্ধিতে সেটা কোনক্রমেই সহায়ক হবে না। বরংচ এর মাধমে ভবিষ্যতে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। অন্যদিকে যারা উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়বে তাদের কোন মৌলিক ধারনা থাকবে না। উল্লেখ্য যে, নবম-দশম শ্রেণিতে বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা তাদের মূল বিষয় হিসাব বিজ্ঞান,  ব্যবসায় পরিচিত, ব্যবসায় উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ পায়। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০টি বই পড়ানো হবে, সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়। তবে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা প্রাধান্য পাবে। সবার জন্য কারিগরি বিষয় পড়তে বাধ্য করা একটি সাংঘর্ষিক বিষয়। বরংচ বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার সাথে কারিগরি শিক্ষা বিভাগ নামে আর একটি বিভাগ যুক্ত করা যেত। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, বর্তমান বিশেষায়িত যুগে বিশেষায়িত শিক্ষার অংশ হিসেবে নবম শ্রেনীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।  জাতীয় শিক্ষাক্রমে নবম শিক্ষার্থীদের বিভাগ বিভাজন করা হবে না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত খসড়া হিসেবে নেওয়ার আগে সকল শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন, সাংবাদিক ও নিয়োগদাতাদের সমন্বয়ে কমপক্ষে ১০টি সেমিনার-ওয়ার্কশপ করা প্রয়োজন ছিল। নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রুপরেখা খসড়ার জন্য এ ধরনের সেমিনার-ওয়ার্কশপ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক আয়োজন করেছে এ বিষয়ে কোন খবর ও প্রচারনা আমার চোখে পড়েনি।  বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য চাই সোনার মানুষ। আর মুজিব বর্ষে ও দেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে সোনার মানুষ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার করার জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা আবশ্যক।

আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি,  জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণিত নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রপরেখা খসড়া-২০২০: নবম শ্রেনীতে বিভাগ হিসেবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ বিভাজন পুনরায় বিবেচনাপূর্বক চূড়ান্ত করে শিক্ষার মান উন্নয়নে অবদান রাখবেন।

সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর আহমেদ মুকুল

শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক।

এই বিভাগের আরো খবর